অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান

প্রশ্ন 21534

ইসলাম নিয়ে আমার কিছু সংশয় আছে, আপনি কি সেগুলো আমাকে স্পষ্ট করতে পারবেন? অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান কী? সকল অমুসলিম কি পাপী; যেহেতু তারা আল্লাহ ও ইসলামের অনুসরণ করে না? কোনো অমুসলিমের জন্য কি ইসলামের অনুসরণ ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করা সম্ভব?

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে ইসলামের বিধান হলো: সেগুলো সবই হয় বানোয়াট ও বাতিল অথবা রহিত।

বানোয়াট ও বাতিল ধর্মের উদাহরণ: প্রাচীন আরবদের মূর্তি ও পাথর পূজা।

রহিত ধর্মসমূহ: সেসব নবীদের আনীত ধর্ম যারা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে এসেছিলেন। এগুলো মূলত সঠিক ছিল, কারণ এদের উৎস ছিল আল্লাহর কাছ থেকে। কিন্তু ইসলাম এসে সেগুলোর স্থান গ্রহণ করেছে। তবে, এটি মূল আকিদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে নয়; যেমন আল্লাহর পরিচয়, ফেরেশতা, জান্নাত ও জাহান্নাম। কারণ এসব বিষয়ে সকল রাসূল একমত। বরং পার্থক্য হলো ইবাদতের পদ্ধতি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়গুলোর ক্ষেত্রে। যেমন: নামায, রোযা, হজ, যাকাত ইত্যাদির ক্ষেত্রে। তবে নবীদের অনুসারীদের মধ্যে যারা উত্তরসুরি তাদের থেকে আকীদায় বিকৃতি ও শির্কে জড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। ইসলাম এসে সেগুলো স্পষ্ট করেছে এবং মানুষকে সেই সহীহ আকীদার দিকে ফিরিয়ে এনেছে যা পূর্ববর্তী নবীরা নিয়ে এসেছিলেন।

আবুদ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর (রাঃ) তাওরাতের কিছু অংশ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! (এগুলো) তাওরাতের কিছু সারসংক্ষেপ, যা আমি বনু যুরাইক গোত্রের এক ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গেল। আব্দুল্লাহ ইবনে যাইদ (যাকে আযানের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল) বললেন: আল্লাহ কি তোমার বুদ্ধি লোপ করে দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারায় কী অবস্থা তা কি দেখতে পাচ্ছ না? তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে ধর্ম হিসেবে, মুহাম্মাদকে নবী হিসেবে এবং কুরআনকে ইমাম (অনুসৃত) হিসেবে মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা স্বাভাবিক হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! যদি মুসাও তোমাদের মাঝে উপস্থিত থাকতেন এবং তোমরা তাকে অনুসরণ করে আমাকে ছেড়ে দিতে, তাহলে তোমরা সুদূর গোমরাহিতে পড়ে যেতে। তোমরা উম্মতসমূহের মধ্যে আমার অংশ, আর আমি নবীগণের মধ্যে তোমাদের অংশ।[হাদীসটি আহমাদ (১৫৪৩৭) বর্ণনা করেছেন]

ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “...এই হাদীসের সকল বর্ণনা মিলিয়ে, যদিও এককভাবে কোনোটি দলিলযোগ্য নয়, তবুও সেগুলোর সমষ্টি প্রমাণ করে যে হাদীসটির একটি ভিত্তি রয়েছে।”[ফাতহুল বারী: (১৩/৫২৫)]

এর দলীল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী:

 وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম চাইলে তার কাছ থেকে তা সেটা কখনো গ্রহণ করা হবে না। সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।[সূরা আলে ইমরান: ৮৫]

ইমাম ত্বাবারী রাহিমাহুল্লাহ এই আয়াতের তাফসীরে বলেন: “মহান আল্লাহ এর দ্বারা বুঝিয়েছেন: যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মকে নিজের ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করতে চাইবে, আল্লাহ তার কাছ থেকে তা কখনো কবুল করবেন না। “এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে” অর্থাৎ আল্লাহর রহমত লাভ থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিতকারী।”[তাফসীরুত তাবারী: (৩/৩৩৯)]

ইসলাম তাদেরকে শুধু পাপী হিসেবে নয়, বরং কাফির হিসেবে দেখে। যারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে, যেমনটি পূর্বের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জাহান্নামে থাকবে, সেখান থেকে বের হবে না। কোনো কাফিরের পক্ষে জান্নাতে প্রবেশ করা সম্ভবপর নয়; যতক্ষণ না সে ইসলাম গ্রহণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّىٰ يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِينَ

যারা আমার আয়াতসমূহকে (নিদর্শনসমূহকে) অবিশ্বাস করে এবং সেগুলোর প্রতি ঔদ্ধত্য দেখায়, তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না; যতক্ষণ না সুচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। (অর্থাৎ সুইয়ের ছিদ্রে উট প্রবেশ করা যেমন অসম্ভব তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাও তেমন অসম্ভব) আর এভাবেই আমি অপরাধীদের শাস্তি দিই।[সূরা আল-আ’রাফ: ৪০]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! এই উম্মতের যে কোনো ইহুদি বা খ্রিষ্টান আমার কথা শুনবে, তারপর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তাতে ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে; সে জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।[হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন]

আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি তিনি যেন অন্যান্য ধর্মের সত্যান্বেষী ব্যক্তিদেরকে ইসলাম ও কুরআন নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধানের পথ দেখান এবং আল্লাহ তাদেরকে সুপথে পরিচালিত করেন ও তাদের বুককে ইসলামে প্রবেশ করার জন্য প্রশস্ত করে দেন।

সূত্র

বিভিন্ন ধর্ম

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android