এই মাসআলাটি 'মুওয়ালাত' (পরম্পরা রক্ষা)-এর সীমানা নির্ধারণ এবং ওযু শুদ্ধ হওয়ার জন্য এটি শর্ত কি না— এর ওপর নির্ভরশীল।
যারা 'মুওয়ালাত'কে ওযু সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত মনে করেন, তারা এর সময়সীমা এবং ওযুর অঙ্গগুলোর মাঝে কতটুকু বিরতি দেওয়া ওযুর শুদ্ধতাকে প্রাভাবিত করবে তা নিয়ে মতভেদ করেছেন:
১. হাম্বলী আলেমদের মতে: মুওয়ালাতের মানদণ্ড হলো— স্বাভাবিক আবহাওয়ায় পূর্বের ধৌত করা অঙ্গটি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই পরবর্তী অঙ্গটি ধৌত করা।
ইমাম আল-মিরদাওয়ি (রহঃ) 'আল-ইনসাফ' (১/১৪১) গ্রন্থে ওযুতে মুওয়ালাত সম্পর্কে বলেছেন: এর অর্থ হলো একটি অঙ্গ ধৌত করতে এতটুকু দেরি না করা যাতে তার আগের অঙ্গটি শুকিয়ে যায়। এখানে উদ্দেশ্য হলো স্বাভাবিক সময়ে (আবহাওয়ায়)। আর অন্য আবহাওয়ায় এর সমপরিমাণ সময়। এটাই মাযহাবের অভিমত এবং মাযহাবের অধিকাংশ আলেম এর ওপর রয়েছেন।"
২. মুওয়ালাতের মানদণ্ড নির্ভর করবে প্রচলিত প্রথা বা 'উরফ'-এর ওপর। মানুষ যদি কোনো বিরতিকে দীর্ঘ বিরতি মনে করে, তবেই তা মুওয়ালাত নষ্ট করেছে বলে গণ্য হবে। আর যদি মানুষ এটাকে দীর্ঘ বিরতি মনে না করে, তবে তা মুওয়ালাতকে নষ্টকারী হিসেবে গণ্য হবে না। এটি ইমাম আহমাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত।
আল-ইনসাফ (১/১৪১) গ্রন্থের লেখক বলেছেন: এবং তাঁর থেকে (ইমাম আহমাদ থেকে) বর্ণিত আছে যে, দীর্ঘ বিরতি প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।"[সমাপ্ত]
শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহঃ) বলেছেন:
"কিছু আলেম বলেছেন (যা ইমাম আহমাদ থেকেও বর্ণিত): বিরতির দীর্ঘতা প্রথা (উরফ) অনুযায়ী নির্ধারিত হবে; অঙ্গ শুকানোর ওপর নয়। ওযু হতে হবে কাছাকাছি সময়ে। যদি মানুষ বলে যে, এই ব্যক্তি ওযুকে বিচ্ছিন্ন করেনি; বরং তার ওযু অবিচ্ছিন্ন আছে। তবে সে মুওয়ালাত রক্ষা করেছে বলে ধরা হবে। ওলামাগণ অনেক মাসআলায় উরফ বা প্রথাকে বিবেচনা করেছেন।
তবে উরফ সব সময় সুনির্দিষ্ট নাও হতে পারে। তাই অঙ্গ শুকানোর সাথে বিধানটিকে যুক্ত করা অধিকতর সুনির্দিষ্ট ও সঠিক।"[আশ-শারহুল মুমতি: ১/১৯৩]
প্রশ্নে যা উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ কেবল দরজা খোলা বা এই জাতীয় কাজ, এটি 'মুওয়ালাত' নষ্ট করার মতো দীর্ঘ বিরতি হিসেবে গণ্য হবে না; এক্ষেত্রে আমরা মুওয়ালাতের যে মানদণ্ডই ব্যবহার করি না কেন। কারণ দরজা খুলতে সাধারণত সামান্য সময়ের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ধৌত করা অঙ্গ শুকানোর আগেই ওযু সম্পন্ন করতে ফিরে আসা সম্ভব।
তবে যদি ব্যক্তি অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে তাকে নতুন করে ওযু শুরু করতে হবে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।