ইসলামে পবিত্রতার বিধান আরোপের মধ্যে নিহিত প্রজ্ঞা

প্রশ্ন 118037

ত্বাহারাত বা পবিত্রতার অর্থ কী; এ বিষয়ে আহলে কিতাবদের রদ করার জন্য? আমরা কেন নামাযে পবিত্রতা অর্জন করি?

উত্তর

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

এক:

চিরন্তন ইসলামী শরীয়ত যা নিয়ে এসেছে যে ব্যক্তি তা জানে সে শরীয়তের আদেশ ও নিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তোলে না। কারণ শরীয়ত সম্পর্কে তার জ্ঞান তাকে বাধা দেয়— পেরেশান হয়ে এর প্রজ্ঞা ও হেতু অনুসন্ধান করতে। আমরা এমন ধরনের প্রশ্ন তুলতে কেবল তাদেরকেই দেখি এই মহান দ্বীন সম্পর্কে যারা অজ্ঞ।

যদি কোনো ব্যক্তি কোনো মানবদেহের চিকিৎসকের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখে, এরপর যদি সেই চিকিৎসক সুস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক কিছু প্রোগ্রাম প্রদান করেন, তখন আপনি দেখবেন চিকিৎসকের প্রতি আস্থাশীল ব্যক্তি তার কথা মেনে নিচ্ছেন, তার নির্দেশ পালন করছেন। কারণ সে বিশ্বাস করে যে চিকিৎসক যা বলেছেন তা অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভিত্তিতেই বলেছেন। আপনি তাকে এই বলে প্রশ্ন করতে দেখবেন না: ‘এখানে এটা কেন করতে বলা হয়েছে? বা ‘সেখানে ওটা কেন নিষেধ করা হয়েছে?

আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উপমা। আমাদের প্রতিপালকের প্রতি আমাদের আস্থা কখনোই সেই ব্যক্তির চিকিৎসকের প্রতি আস্থার সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়। আল্লাহ ও মানুষের মাঝে, স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে তুলনার কোনো সুযোগই তো নেই।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ তাঁর পবিত্রতার বিধানসমূহ সংক্রান্ত আলোচনার শেষভাগে যা বলেছেন তা পূর্বোক্ত কথাকে সত্যায়ন করে। তিনি বলেছেন:

‘যদি হিপোক্রেটিস এবং তার ছাত্ররা এই ধরনের উপদেশ দিত, তাহলে তাদের অনুসারীরা তাদের কাছে অবনত হয়ে যেত, তাদেরকে তীব্র সম্মান করত, তাদের কথা থেকে সাধ্যমত প্রজ্ঞা ও উপকারিতা উদঘাটন করত।’[শিফাউল ‘আলীল (পৃ. ২৩০)]

দুই:

পবিত্রতার বিধান আরোপ করার প্রজ্ঞা সম্পর্কে বলতে গেলে: এর সংখ্যা অনেক। আর আমরা ‘তাহারাত’ বলতে বুঝি: ময়লা ও নাপাকি দূর করা, অযু ও গোসল ইত্যাদি। এসবে নিহিত কিছু প্রজ্ঞা নিম্নরূপ:

১. পবিত্রতা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির (ফিতরাতের) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার উপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। নিঃসন্দেহে ইসলাম হলো ফিতরাতের ধর্ম। ইসলাম সহজাত সৃষ্টিগত সুন্নাহ পালনে উৎসাহ দিয়েছে, যাতে মানুষ তাদের করণীয় কাজগুলো করে এবং পরিহারযোগ্য বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকে। চেহারা ধোয়া, নাক পরিষ্কার করা, মুখ ধোয়া, দুইহাত পরিষ্কার করা, গোসল করা, শৌচ করা— এসবের জন্য আলাদা শরীয়ত প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। বরং এ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নাপাকি ও অপবিত্রতা থেকে দূরে রাখায় সচেষ্ট হওয়ার জন্য মানুষ অবিকৃত প্রবৃত্তির অধিকারী হওয়াই যথেষ্ট।

২. ইসলাম পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের ধর্ম। ইসলাম চায় ইসলামের অনুসারীরা মানুষের মাঝে এভাবে প্রকাশিত হোক যে, তারা নিজেদের দেহ পরিষ্কার করে, চুল-দাড়ি আঁচড়ায়, পবিত্র পোশাক পরিধান করে এবং তাদের থেকে সুগন্ধি ছড়ায়। এ ধরনের লোকদের দ্বারা মানুষ অভিভূত হয়, যা ইসলামের দাওয়াতকে সফল করতে সহায়তা করে। এছাড়াও মানুষ পরিচ্ছন্ন দেহ ও পোশাকধারী ব্যক্তির প্রতি আকৃষ্ট হয়, আর অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযুক্ত ব্যক্তির প্রতি অনীহা বোধ করে। অপবিত্র জীবনযাপন কোনোভাবে ইসলামের অংশ নয়।

৩. আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা বহু রোগ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেয়। আর নোংরামি-অপরিচ্ছন্নতা বহু রোগের কারণ। তাহলে এই মহান ধর্মে কীভাবে এমন বিধান থাকবে না যা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং এর বিস্তার রোধ করে?!

৪. মুসলিমের তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের একাধিক উপলক্ষ থাকে। মানুষ যখন কোনো রাজা, নেতা বা সম্মানিত ব্যক্তির সামনে দাঁড়ায় তখন দেখা যায় সে নিজের দেহ, পোশাক ও ভালো ঘ্রাণের ব্যাপারে যত্নশীল থাকে। মানুষের প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন ইসলাম নিষিদ্ধ করেনি; বরং আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ছিল তাঁর কাছে প্রতিনিধি দল আসলে তিনি সাজ-সজ্জা গ্রহণ করতেন। অধিকন্তু যার জন্য সবচেয়ে বেশি সাজা যায়, যার সামনে শরীর-পোশাক পবিত্র রাখার ব্যাপারে সর্বাধিক সচেতন থাকা যায় তিনি হলেন আল্লাহ তাআলা! তাই আমরা আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর জন্য যখন সাজ-সজ্জা করি তখন এতে আমরা আশ্চর্য হই না। লোকেরা তাদের মত কোনো একজন মাখলুকের সামনে যাওয়ার জন্য এ ধরনের সাজ-সজ্জা বা এর চেয়ে বেশি সাজ-সজ্জা গ্রহণ করে। তাহলে আল্লাহর সামনে যাওয়ার জন্য তার অবস্থা কেমন হওয়া উচিত! বরং মানুষের সাজগোছ আল্লাহর জন্য হওয়াই সবচেয়ে উপযুক্ত। যেমনটি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন।[দেখুন: সহীহ ইবন খুযাইমাহ (৭৬৬)]

৫. যে ব্যক্তি শরিয়তের বিধানসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে এবং আল্লাহ তাকে বোধশক্তিও দান করেছেন, সে সহজেই ইসলামের বিভিন্ন পবিত্রতার ধরনগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা ও তাতে নিহিত প্রজ্ঞা বুঝতে পারে। কেন জানাবতের কারণে গোসল ফরজ করা হয়েছে; অথচ প্রস্রাবের কারণে নয়। তেমনিভাবে ওজু ও গোসলের মধ্যকার পার্থক্যের হিকমতও সে বুঝতে পারে।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বীর্য নির্গমনের পর গোসলকে ফরজ করেছেন; অথচ প্রস্রাবের পর নয়—এটি শরিয়তের সুমহান সৌন্দর্য, রহমত, প্রজ্ঞা ও উত্তমতার অংশ। কারণ বীর্য পুরো শরীর থেকে নির্গত হয়। তাই তো আল্লাহ এর নাম দিয়েছেন سلالة (নির্যাস) যেহেতু তা গোটা দেহ থেকে নির্যাস আকারে নিঃসৃত হয়। অন্যদিকে প্রস্রাব হলো খাদ্য- পানীয়ের অতিরিক্ত অংশ; যা পাকস্থলী ও মূত্রথলিতে রূপান্তরিত হয়েছে। বীর্য নির্গমনের মাধ্যমে শরীর যেভাবে প্রভাবিত হয় প্রস্রাবের তুলনায় তা অনেক বেশি।

এছাড়া বীর্য নির্গমনের কারণে গোসল করা দেহ, হৃদয় ও আত্মার জন্য অত্যন্ত উপকারী। বরং দেহে অবস্থানকারী সব ধরনের আত্মা গোসলের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। বীর্য বের হওয়ার ফলে শরীর থেকে যে শক্তি ও তাপ কমে যায় গোসল তা পুনরায় ফিরিয়ে দেয়। এটি একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বাস্তবতা।

এছাড়া জানাবত মানুষকে ভারী ও অলস করে তোলে। কিন্তু, গোসল তাকে চাঙ্গা ও হালকা হওয়ার অনুভূতি দেয়। এজন্য আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু জানাবতের গোসল করার পর বলেছিলেন: ‘আমার মনে হচ্ছে যেন আমি আমার ওপর থেকে একটি ভারী বোঝা নামিয়ে রেখেছি।’

মোদ্দাকথা হচ্ছে: সুষ্ঠু ইন্দ্রিয় ও অবিকৃত প্রবৃত্তি সম্পন্ন মানুষ সহজে বুঝতে পারে ও জানতে পারে যে জানাবতের গোসল দেহ ও হৃদয়ের জন্য প্রায় জরুরী পর্যায়ের উপকারী বিষয়। কারণ জানাবত মানুষের হৃদয় ও আত্মার সাথে পবিত্র আত্মাসমূহের যে দূরত্ব তৈরী করে। কিন্তু গোসল করলে এই দূরত্ব মিটে যায়।

এ কারণে একাধিক সাহাবী বলেছেন: “বান্দা যখন ঘুমায় তার রূহ ঊর্ধ্বে উঠে যায়; যদি সে পবিত্র থাকে তবে তাকে সিজদার অনুমতি দেওয়া হয়; আর যদি সে জুনুবী অবস্থায় থাকে তবে অনুমতি দেওয়া হয় না।” এ কারণে নবী জুনুবী অবস্থায় ঘুমাতে চাইলে ওজু করে নিতে বলেছেন।

শ্রেষ্ঠ চিকিৎসকরাও বলেছেন যে, সহবাসের পর গোসল করা দেহের শক্তি ফিরিয়ে আনে, শরীরের ক্ষয় পূরণ করে। এটি মানুষের দেহ ও রূহের জন্য সর্বাধিক উপকারী। এটি পরিত্যাগ করা ক্ষতিকর। এ বিষয়ে সুস্থ বুদ্ধি ও মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির সাক্ষ্যই যথেষ্ট। আল্লাহই তৌফিকদাতা।

অন্যদিকে শরিয়তদাতা যদি প্রস্রাবের পর গোসল করা ফরজ করতেন তাহলে তা মানবজাতির জন্য অনেক কষ্টকর হত। আল্লাহর প্রজ্ঞা, রহমত ও তাঁর সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ এমন কিছু আরোপ করা থেকে বারণ করে।

[ই’লামুল মুওয়াক্কিইন (২/৭৭–৭৮), আরো দেখুন: ত্বাহির ইবনে আশূরের রচিত 'আত-তাহরীর ওয়াত-তানওয়ীর' (৫/৬৫)]

৬. ইসলামের দৃষ্টিতে বাহ্যিক পবিত্রতা ও আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা উভয়টির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। যে ব্যক্তি নিজের দেহ ও পোশাককে অপবিত্রতা ও নাপাকি থেকে পরিষ্কার রাখায় সচেষ্ট, তার উচিত নিজের অন্তরকেও দোষ-ত্রুটি ও নিকৃষ্ট চরিত্র থেকে পবিত্র রাখায় আরও বেশি সচেষ্ট হওয়া। যে ব্যক্তি তার দেহ ও পোশাককে পবিত্র রাখে, এটি আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের আলামত বহন করে। ইসলাম অন্তরের সৌন্দর্য উপেক্ষা করে কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের ওপর জোর দেয় না। বরং উভয়টিই কাম্য। যদি বাহ্যিক সাজসজ্জার উপকরণের অভাবে কারো ওজর গ্রহণযোগ্য হয়ও, কিন্তু আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য অর্জন না করায় তার ওজর গ্রহণযোগ্য নয়। এই উভয় ধরনের পবিত্রতা আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

“নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালোবাসেন এবং প্রকৃষ্টভাবে পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকেও ভালোবাসেন।”[সূরা বাকারা: ২২২]

৭. সবশেষে আমরা ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহুর গভীর অর্থবহ একটি বক্তব্য উল্লেখ করব। তিনি বলেন:

“শরিয়তের বিধানাবলি, এর মাধ্যমসমূহ ও উদ্দেশ্যসমূহ নিয়ে চিন্তা করুন, দেখতে পাবেন সেগুলো কাঙ্ক্ষিত প্রজ্ঞা ও মহৎ উদ্দেশ্য ধারণ করে আছে । যেগুলোর জন্য বিধানগুলো আরোপ করা হয়েছে। যেগুলো না থাকলে মানুষ পশুর মতো, বরং পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে যেত। পবিত্রতার বিধানে কত প্রজ্ঞা বিদ্যমান। এতে রয়েছে দেহ ও মনের কত উপকার, মনকে আনন্দিত করা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চাঞ্চল্য আনা, সহজাত প্রকৃতি ও আত্মমর্যাদা গুনাহগুলোর কারণে যে বোঝাগুলো চাপিয়ে দেয় সেগুলোকে লাঘব করা। তাই পবিত্রতা অর্জন হচ্ছে— মন, আত্মা ও দেহের পরিস্কারক। জানাবতের গোসল দেহের কোমলতা বৃদ্ধি করে এবং জানাবাতের মাধ্যমে দেহ যে শক্তি হারায় অনুরূপ শক্তি ফিরিয়ে আনে; যা দেহের জন্য অন্যতম উপকারী।

ভেবে দেখুন, ওজু করতে হয় এমন অঙ্গগুলোতে যেগুলো হচ্ছে উপার্জন ও কর্ম করার স্থান! ওজু করা হয় চেহারাতে; যাতে রয়েছে শ্রবণেন্দ্রিয়, দর্শনেন্দ্রিয়, বাগিন্দ্রিয়, ঘ্রাণেন্দ্রিয় এবং স্পর্শেন্দ্রিয়। এগুলোই হলো সীমালঙ্ঘন ও পাপের প্রবেশদ্বার। এগুলো দিয়েই পাপ করা হয়। এরপর ধোয়া হয় হাতদ্বয়। যে দু'টো দিয়ে মানুষ ধরে, গ্রহণ করে ও প্রদান করে। এরপর ধোয়া হয় পাদ্বয়। যে দু'টো দিয়ে মানুষ হাঁটে ও দৌঁড়ায়।

আর মাথা ধোয়ার মধ্যে যেহেতু কষ্ট বেশি, তাই মাথা ধোয়ার বদলে মাসেহ করাকে যথেষ্ট করা হয়েছে।
অযুকে এ সকল অঙ্গ থেকে পাপ বেরিয়ে যাওয়ার মাধ্যম করা হয়েছে। এমনকি পানির ফোঁটার সাথে চুল ও চামড়া থেকেও পাপ বেরিয়ে যায়। এ মর্মে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: “মুসলিম বা মুমিন বান্দা যখন অযুর উদ্দেশ্যে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন অযুর পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে প্রত্যেক সেই গুনাহ বের হয়ে যায়, যা সে দুই চক্ষুর দৃষ্টির মাধ্যমে করেছিল। অতঃপর যখন সে তার হাত দুটিকে ধৌত করে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে প্রত্যেক সেই গুনাহ বের হয়ে যায়, যা সে উভয় হাতে ধারণ করার মাধ্যমে করেছিল। অতঃপর যখন সে তার পা দুটিকে ধৌত করে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে প্রত্যেক সেই গুনাহ বের হয়ে যায়, যা সে তার দু’পায়ে চলার মাধ্যমে করে ফেলেছিল। শেষ অবধি সমস্ত গুনাহ থেকে সে পবিত্র হয়ে বের হয়ে আসে।”[সহীহ মুসলিম] এছাড়া সহীহ মুসলিমে উসমান ইবনে আফ্‌ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করবে, তার পাপসমূহ তার দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে। এমনকি তার নখগুলোর নিচে থেকেও (পাপ) বেরিয়ে যাবে।” এটি অযুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ হেকমত ও উপকারিতা।

প্রজ্ঞাকে অস্বীকারকারীরা বলে: অযু নিছক কষ্ট ও ক্লেশের নাম, যার মাঝে কোনো কল্যাণ নেই। কোনো প্রজ্ঞার কারণে এটি বিধিবদ্ধ করা হয়নি! অযুতে নিহিত প্রজ্ঞা হিসেবে যদি শুধু এটিই থাকত যে কিয়ামতের দিন অযু অন্যান্য উম্মতের মাঝে এই উম্মতের আলামত হবে; তাদের চেহারায় ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চিহ্ন হবে; যে আলামত অন্য কারো জন্য থাকবে না। কিংবা ওজুকারী পবিত্র দেহ, পবিত্র পোশাক ও পবিত্র অন্তর নিয়ে আল্লাহর সামনে যাওয়ার, দাঁড়ানোর জন্য, রোনাজারি করার জন্য ওযুর করে পানির মাধ্যমে তার দেহকে ও তাওবার মাধ্যমে অন্তরকে পবিত্র করে প্রস্তুত হয়; তাহলে এটাই যথেষ্ট হত। এই প্রজ্ঞা, রহমত ও কল্যাণের উপরে আর কী থাকতে পারে?!

যেহেতু কামনার উত্তেজনা গোটা দেহে প্রবহমান থাকে, এমনকি প্রত্যেক চুলের নীচে কামোত্তেজনা থাকে তাই গোসলও সমস্ত শরীরজুড়ে করতে হয়। এ মর্মে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক লোমের নিচে জানাবত (অপবিত্রতা) থাকে।” [হাদীসটি সুনান প্রণেতারা বর্ণনা করেছেন, এতে দুর্বলতা রয়েছে]

তিনি গোসলের মাধ্যমে পানিকে প্রতিটি লোমের গোড়ায় পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন; যাতে সেই উত্তাপ প্রশমিত হয়, অন্তর আল্লাহর স্মরণে, তার বাণী পাঠে ও তার সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রশান্ত হয়।”[শিফাউল আলীল: (পৃ. ২২৯–২৩০)]

সর্বপরি, যে ব্যক্তি শরিয়তের বিধানসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে তার কাছে এর প্রজ্ঞাসমূহ প্রতিভাত হয়। আর আল্লাহ যার দৃষ্টি অন্ধ করে দেন সে চোখ দিয়ে যা দেখে বা কান দিয়ে যা শুনে এর দ্বারা উপকৃত হয় না।

জানা উচিত যে পরিচ্ছন্নতা মহৎ চরিত্রের অংশ। এ বিষয়টি নিয়ে পূর্ববর্তী কোনো শরীয়ত মতভেদ করেনি। এমন কোনো নবী নেই যিনি তাঁর জাতিকে প্রথমে হৃদয়ের পবিত্রতার দিকে ডাকেননি। তারপর সুন্দর কথা, উত্তম কাজ, নৈতিক চরিত্র, দেহ ও পোশাকের পবিত্রতা, নাপাক ও অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকা— এসবের দিকে আহ্বান করেননি। এ বিষয়ে যেতর্ক করে বস্তুত সে কুট তর্ক করে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র

অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতী কাজ
পবিত্রতা

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

Previous
পরবর্তী
at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android