এক:
শরীরের চামড়ায় পানি পৌঁছতে বাধা দেয় এমন সব জিনিস অপসারণ করা ওয়াজিব। তবে নখের নিচে কিংবা পায়ের ফাটা স্থানে জমে থাকা অতি সামান্য পরিমাণ ময়লা, যা অনেক চেষ্টা করার পরেও অপসারণ করা যায় না; তা ক্ষমার যোগ্য।
মিরদাওয়ী আল-ইনসাফ (১/১৫৮) গ্রন্থে বলেন:
"যদি নখের নিচে সামান্য ময়লা থাকে যা পানি পৌঁছতে বাধা দেয় তবে ইবনে আকীলের মতে পবিত্রতা শুদ্ধ হবে না। তবে অন্য মতে শুদ্ধ হবে। এটাই সঠিক মত। ইবনে কুদামা ও শাইখ তাকিউদ্দিন (ইবনে তাইমিয়্যাহ) এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, যাদের জন্য এটা থেকে বেঁচে থাকা কষ্টকর, যেমন: শিল্প-শ্রমিক, কৃষক বা অন্যান্য কঠিন পেশার শ্রমজীবী; তাদের ক্ষেত্রে এটি জায়েজ।
শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহ পানিরোধকারী প্রত্যেক সামান্য জিনিসকে এর অধিভূক্ত করেছেন; যেমন শরীরের যে কোনো অংশে লেগে থাকা সামান্য রক্ত, আটা বা এ জাতীয় অন্য কিছু এবং এই অভিমতকে মনোনীত করেছেন।"
আর যদি চামড়ায় লেগে থাকা জিনিসটি পরিমাণে বেশি হয় যা ক্ষমার্হ নয় এবং তা অপসারণ করা কোনোভাবেই সম্ভবপর না হয়, তাহলে আপনি এর ওপর ব্যান্ডেজের মতো মাসেহ করবেন।
শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেন:
"যদি পানি পৌঁছতে বাধা দেয় এমন কিছু থাকে, তবে অঙ্গটি ধৌত করা হয়েছে বলে গণ্য হবে না। কিন্তু, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন, সামান্য পরিমাণ ক্ষমার যোগ্য— বিশেষ করে যারা এ ধরনের কাজে লিপ্ত থাকেন। যেমন যারা রঙের মিস্ত্রি। তাদের শরীরে হয়তো এক-দুই ফোঁটা রঙের বিন্দু লেগে থাকে যা তারা ভুলে যান বা তৎক্ষণাৎ অপসারণ করার কোনো ব্যবস্থা তাদের কাছে থাকে না। ইবনে তাইমিয়্যার মতে এটি মাফযোগ্য। কিন্তু, আমাদের উচিত ঐ হাদীসটি গ্রহণ করা (যেটি সহিহ মুসলিমে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে সংকলিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি ওযু করেছে। কিন্তু, তার পায়ে নখের সমপরিমাণ জায়গা ধোয়া হয়নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দেখে বললেন: তুমি ফিরে গিয়ে ভালোভাবে ওযু করে আস। তখন সে ফিরে গেল, তারপর নামায আদায় করল।) এবং কোনো কিছু সামান্য হলেও সেটি ক্ষমার্হ নয়। যদি ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে সেটা অপসারণ করা সম্ভবপর হয় তাহলে অপসারণ করবে। অন্যথায় এর ওপর ব্যান্ডেজের মত মাসেহ করবে।"[শারহুল কাফী থেকে সংকলিত]
দুই:
মোবাইল অ্যাপের মালিকেরা যদি তা কপি করার অনুমতি না দেন তাহলে কপি করা (পাইরেসি) করা জায়েজ নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে 454 নং প্রশ্নোত্তরটি দেখুন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।