কাফেরদের অনুকরণের হুকুম এবং ‘মুসলিমরা যেটাকে ভালো মনে করে সেটা আল্লাহর কাছে ভালো’ কথাটির অর্থ

প্রশ্ন: 45200

কাফেরদের চাল-চলন ও আচার-আচরণ অনুকরণের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? ইসলামী শরীয়তে এর মূলনীতিগুলো কী কী? কাফেরদের যে কোনো কাজের অনুকরণই কী হারাম অনুকরণ? উল্লেখ্য যে কাফেরদের এমন অনেক কাজ আছে যেগুলো হারাম নয়, শরীয়ত সেগুলোর কোন নিন্দা নেই এবং যে ব্যক্তি কাজটি করে সে নিছক কাফেরদের অনুকরণের উদ্দেশ্যে করে না; বরং সে কাজটি ভালো পেয়েছে দেখে করে। যেমনটি ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: ‘মুসলিমরা যেটাকে ভালো মনে করে সেটা আল্লাহর কাছে ভালো’।

বিষয়টি আমাদেরকে জানাবেন, আল্লাহ আপনাদেরকে সম্মানিত করুন। আমি চাই যে, আপনারা বিস্তারিত উত্তর দিবেন এবং এ মাসয়ালার মূলনীতিগুলোও উল্লেখ করবেন।

উত্তরের সার-সংক্ষেপ

১- শরীয়ত মুসলিমদেরকে কাফেরদের অনুকরণ করতে নিষেধ করেছে। বিশেষ করে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের অনুকরণ করা থেকে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা তাদের সকল বিষয়ে আমভাবে নয়। বরং তাদের যে সমস্ত স্বতন্ত্র ধর্মীয় বিষয়, প্রতীক এবং বিশেষত্ব রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে।

২- মুসলিমদের জন্য ধর্মীয় প্রতীক এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্য কোন গোষ্ঠীর অনুকরণ করার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তাঁর ধর্মকে পূর্ণ করে দিয়েছেন, নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন এবং আমাদের জন্য ইসলামকে ধর্ম হিসেবে পছন্দ করেছেন।

৩- যে সমস্ত বিষয়ে কাফেরদের অনুকরণ করা হয় তার মধ্যে রয়েছে: ইবাদতের বিষয়াবলিতে তাদের অনুকরণ। যেমন: শির্কী বিষয়ে তাদের অনুকরণে কবরের উপর কিছু নির্মাণ করা, কবরে সমাধি-সৌধ নির্মাণ করা এবং কবরের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করা। এছাড়া শির্কী-বিদআতী উৎসবে তাদের অনুকরণ করা। যেমন: মিলাদ-কেন্দ্রিক ঈদ উদযাপন।

৪- অমুসলিমদের সভ্যতায় উপকারী ও ক্ষতিকর উভয়টিই আছে। তাই আমরা তাদের সভ্যতার উপকারী কিছু বর্জন করব না এবং ক্ষতিকর কিছু গ্রহণ করব না।

উত্তর

মুসলিমদের জন্য ধর্মীয় নিদর্শনের ক্ষেত্রে অন্যদের অনুকরণ করা নিষ্প্রয়োজন

মুসলিমদের জন্য দ্বীনের ও ইবাদতের নিদর্শনের ক্ষেত্রে অন্য কোনো জাতির অনুকরণ করার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁর ধর্মকে সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁর নিয়ামতকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন এবং আমাদের জন্য ইসলামকে ধর্ম হিসেবে পছন্দ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلامَ دِيناً

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের জন্য আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ধর্ম হিসেবে ইসলামকে তোমাদের জন্য পছন্দ করলাম।”[সূরা মায়েদা: ৩]

শরীয়ত মুসলিমদেরকে কাফেরদের অনুকরণ করতে নিষেধ করেছে। বিশেষত ইহুদি-খ্রিষ্টানদের অনুকরণ করা থেকে। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের সকল বিষয়ে আমভাবে নয়। বরং তাদের ধর্মীয় বিষয়াবলি, নিদর্শন এবং বিশেষত্বের ক্ষেত্রে যেগুলো তাদের স্বাতন্ত্র্য।

আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতিকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে অনুকরণ করবে। এমনকি তারা যদি গুই সাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তোমরাও এতে তাদের অনুকরণ করবে।” আমরা বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! ইহূদী ও নাসারাদের?’ তিনি বললেন: “আর কারা?”[হাদীসটি বুখারী (১৩৯৭) ও মুসলিম (৪৮২২) বর্ণনা করেছেন]

উক্ত হাদীসে ইহুদি-নাসারার অনুকরণ করার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। তাদের পন্থা যারা অনুসরণ করে তাদের নিন্দা করা হয়েছে। শরীয়ত এই নিষেধাজ্ঞাকে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে কেউ যদি কাফেরদের অনুকরণ করে তাহলে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “কেউ যদি কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ করে তাহলে সে তাদের দলভুক্ত।”[হাদীসটি আবু দাউদ (৩৫১২) বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে (২৬৯১) এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেন]

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘এ হাদিসের সর্বনিম্ন অবস্থার দাবি হচ্ছে তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা হারাম; যদিও এর বাহ্যিক মর্মের দাবি হচ্ছে অনুকরণকারীরা কাফের।’[ইকতিদাউস সীরাতিল মুস্তাকীম (পৃ. ২৩৭)]

কাফেরদের অনুকরণকারী ব্যক্তি হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে। সে পরাজিত মানসিকতা লালন করে। তাই নিজের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে যাকে সে সম্মান করে তার অনুকরণে অগ্রসর হয়। এই প্রকার লোকেরা যদি ইসলামী অনুশাসনগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব বুঝত এবং যে সভ্যতার পেছনে ছুটে চলেছে তার অনিষ্ট জানত, তাহলে তারা বুঝতে পারত যে তারা ভুলের উপর আছে। তারা পূর্ণ ও উত্তম কিছু ছেড়ে নিকৃষ্ট ও মন্দের দিকে ধাবিত হয়েছে।

কাফেরদের নিষিদ্ধ অনুকরণের নানা দিক

কাফেরদের নিষিদ্ধ অনুকরণের নানা দিক যা থেকে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে:

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান বলেন: ‘যে সমস্ত বিষয়ে কাফেরদের অনুকরণ করা হয় তার মধ্যে রয়েছে: ইবাদতের ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ। যেমন: শির্কী বিষয়ে তাদের অনুকরণে কবরের উপর কিছু নির্মাণ করা, কবরের উপর সমাধি-সৌধ নির্মাণ করা এবং কবরের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইহুদি-খ্রিষ্টানদের উপর আল্লাহর লানত হোক, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়েছে।”[সহিহ বুখারী (৪২৫) ও সহিহ মুসলিম (৫৩১)]

এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন যে তারা তাদের মধ্যকার নেককার ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং ভেতরে মূর্তি তৈরি করত। তারা হচ্ছে নিকৃষ্ট সৃষ্টি।[সহিহ বুখারী (৪১৭) ও সহিহ মুসলিম (৫২৮)] বর্তমান যামানায় কবরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করার কারণে বড় শির্ক সংঘটিত হচ্ছে যা সবার কাছেই জানা বিষয়। এর কারণ ইহুদি-খ্রিষ্টানদের অনুকরণ।

আরও রয়েছে: শির্কী ও বিদআতী উৎসবগুলোর ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ। উদাহরণস্বরূপ: জন্মদিনকে কেন্দ্র করে উৎসব পালন; যেমন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিলাদ, রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজাদের জন্মদিন পালন প্রভৃতি। কোন কোন ক্ষেত্রে এই বিদআতী কিংবা শির্কী উৎসবগুলোকে "দিবস" বা "সপ্তাহ" নামেও অভিহিত করা হয়। যেমন: বিভিন্ন দেশের "জাতীয় দিবস", "মা দিবস", "পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ" ইত্যাদি আরো অনেক "দিবস" ও "সপ্তাহ"। এগুলো সবই কাফেরদের সমাজ থেকে মুসলিম সমাজে অনুপ্রবিষ্ট উৎসব। অন্যথায় ইসলামে মাত্র দুটি ঈদ রয়েছে: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এছাড়া আর সবই বিদআত ও কাফেরদের অনুকরণ।’[আল-হাস্‌সু ‘আলা মুখালাফাতিল কুফ্‌ফার’ শীর্ষক খুতবা থেকে গৃহীত]

ইতঃপূর্বে (47060) নং প্রশ্নের উত্তরে কাফেরদের বিশেষ পোশাকের ক্ষেত্রে এবং তাদের বিশেষ প্রচলন যেমন: দাড়ি মুণ্ডন করার ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে মূলনীতিসমূহ

কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণ হারাম হওয়ার বিষয়টি তাদের উপাসনা ও তাদের বিশেষ প্রথার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তারা উপকারী যা কিছু তৈরি ও উদ্ভাবন করছে সেগুলোতে মুসলিমদের অংশগ্রহণে কোনো নিষেধ নেই। বরং মুসলিমদের উচিত ঐ সমস্ত ক্ষেত্রে অগ্রণী হওয়া ও উদ্ভাবক হওয়া।

শাইখ ইবনে উছাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন:

‘যদি বলা হয় ‘কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণ’-এর মানে এ নয় যে, তাদের তৈরীকৃত কোনো কিছু আমরা ব্যবহার করব না। এমন কথা কেউ বলে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে এবং তার পরবর্তী যুগেও মানুষজন কাফেরদের তৈরি পোশাক পরত এবং তাদের তৈরি পাত্র ব্যবহার করত।

কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণ মূলত তাদের পোশাক, অলংকার এবং বিশেষ প্রথার সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ। এর অর্থ এই নয় যে তারা যাতে চড়ে আমরা তাতে চড়ব না অথবা তারা যা পরিধান করে আমরা তা পরব না। কিন্তু যদি তারা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে চড়ে থাকে যা তাদের স্বাতন্ত্র্য সেক্ষেত্রে আমরা তাদের রীতি অনুযায়ী চড়ব না। তারা যদি একটি নির্দিষ্ট আকৃতিতে পোশাক তৈরি করে আমরা সে আকৃতিতে পোশাক তৈরি করব না। যদিও আমরা তাদের মতোই গাড়িতে চড়ব এবং তারা যে ধরনের সুতা ব্যবহার করে কাপড় তৈরি করে আমরা সেই সুতা দিয়েই কাপড় তৈরি করব।’[মাজমুউ ফাতাওয়াশ শাইখ ইবনে উছাইমীন (১২/ প্রশ্ন: ১১৭)]

তিনি আরো বলেন: ‘সাদৃশ্য গ্রহণের মাপকাঠি হচ্ছে সাদৃশ্য গ্রহণকারী এমন কিছু করবে যা সাদৃশ্য গ্রহণকৃত ব্যক্তির বিশেষত্ব। কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণ হলো এই যে, মুসলিম এমন কিছু করবে যা কাফেরদের কোনো বৈশিষ্ট্য। কিন্তু মুসলিমদের মাঝে যা ছড়িয়ে পড়েছে এবং যেটির ক্ষেত্রে কাফেরদের বিশেষত্ব নেই; সেটি সাদৃশ্য গ্রহণ নয়। তাই এটি সাদৃশ্য গ্রহণ করার কারণে হারাম হবে না; তবে যদি অন্য কোনো দিক থেকে হারাম হয় সেটি ভিন্ন বিষয়। আমরা এখানে যা বললাম এটাই সাদৃশ্য গ্রহণের মর্মার্থ।’[মাজমুউ ফাতাওয়াশ শাইখ ইবনে উছাইমীন (১২/প্রশ্ন: ১৯৮)]

(21694) নং প্রশ্নোত্তরে আমরা কাফেরদের অনুকরণের হুকুম ও মূলনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পাবেন। এছাড়া (43160) নং প্রশ্নোত্তরেও বিশদ আলোচনা রয়েছে।

পশ্চিমা সভ্যতার ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান

অমুসলিমদের সভ্যতায় ভালো ও মন্দ উভয়টি আছে। আমরা ভালো পরিত্যাগ করব না এবং মন্দ গ্রহণ করব না। শাইখ শানকীত্বী রাহিমাহুল্লাহ এই অবস্থানকে সংক্ষেপে উল্লেখ করে বলেন:

‘পশ্চিমা সভ্যতার ব্যাপারে অবস্থান চার প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ; পঞ্চম কোন প্রকার নেই:

১. পশ্চিমা সভ্যতার ভালো-মন্দ সব পরিত্যাগ করা।

২. পশ্চিমা সভ্যতার ভালো-মন্দ সবই গ্রহণ করা।

৩. পশ্চিমা সভ্যতার মন্দকে গ্রহণ করা ও ভালোকে পরিত্যাগ করা।

৪. পশ্চিমা সভ্যতার ভালোকে গ্রহণ করা ও মন্দকে পরিত্যাগ করা।

আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, নিঃসন্দেহে প্রথম তিন প্রকার পরিত্যাজ্য। কেবল এক প্রকার নিঃসন্দেহে সঠিক; আর তা হলো সর্বশেষ প্রকার।’[আদ্‌ওয়াউল বায়ান (৪/৩৮২)]

ইবনে মাসউদের (রাঃ) উক্তি: মুসলিমরা যেটাকে ভালো মনে করে সেটা আল্লাহর কাছে ভালো-এর ব্যাখ্যা

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য মুসলিমরা যেটাকে ভালো মনে করে সেটা আল্লাহর কাছে ভালো কথাটির দ্বারা শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক কিন্তু বিবেকের কাছে ভালো এমন কিছুকে বুঝানো হয়নি। ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: ‘যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে ভালো মনে করল, সে যেন শরয়ি আইন প্রণয়ন করল’। এ কথার দ্বারা সকল মানুষের বিপরীতে ব্যক্তি বিশেষ যেটাকে ভালো মনে করে সেটাও উদ্দেশ্য নয়। বরং এই উক্তির দুটো অর্থ হতে পারে, দুটো অর্থই সঠিক:

১. এর দ্বারা উদ্দেশ্য এমন লোকাচারের অনুসরণ করা যা শরীয়ত-বিরোধী নয়।

২. এর দ্বারা উদ্দেশ্য ইজমার প্রামাণিকতা। মুসলিমরা যদি কোনো কিছুকে ভালো মনে করার ব্যাপারে সর্বসম্মত হয়ে যায়, তাহলে এই ঐকমত্য-ই প্রমাণ। তখন আল্লাহর কাছে এর বিধান উত্তম বলে গণ্য হবে। ‘মুসলিমরা যেটাকে ভালো মনে করে’ এই কথাটির এমন অর্থ হতে পারে।[দেখুন: সারাখসীর রচিত ‘আল-মাবসূত্ব (১২/১৩৮) ও ইবনুল কাইয়িমের ‘আল-ফুরুসিয়্যাহ’ (পৃ. ২৯৮)]

এটি অর্থটি সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যখন আমরা ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথাকে সকল মুসলিমের ব্যাপারে ব্যাপক বলে গণ্য করব। যদিও তার কথার প্রসঙ্গ থেকে বোঝা যায় যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেছেন; অন্যদের ব্যাপারে নয়। তাঁর উক্তিটির পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো: ‘আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের অন্তরগুলোর দিকে নজর দিয়ে দেখতে পেলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তর বান্দাদের অন্তরসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম। তাই তিনি তাকে নিজের জন্য বাছাই করলেন এবং তাঁকে নিজ রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করলেন। এরপর মুহাম্মাদের অন্তরের পর তিনি অন্য বান্দাদের অন্তরের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন তাঁর সাহাবীদের অন্তরগুলো সর্বোত্তম। তাই তিনি তাদেরকে তাঁর নবীর উজির বানিয়ে দিলেন। যারা তাঁর দ্বীনের পক্ষে লড়াই করে। অতএব, মুমিনরা যেটাকে উত্তম মনে করে সেটা আল্লাহর কাছে উত্তম। আর মুমিনরা যেটাকে মন্দ মনে করে সেটা আল্লাহর কাছে মন্দ।’[হাদীসটি ইমাম আহমদ (৩৪১৮) বর্ণনা করেন। শাইখ আলবানী ‘তাখরীজুত ত্বহাভিয়্যা’ (৫৩০)-তে হাদীসটিকে হাসান বলে গণ্য করেছেন]

কোন অবস্থায় ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই বক্তব্য দিয়ে শরীয়ত হারাম করেছে যেমন: 'মুশরিকদের সাদৃশ্য গ্রহণ' এমন কোনো কিছুকে উত্তম গণ্য করার পক্ষে দলিল দেয়া সঠিক নয়।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র

সূত্র

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

at email

নিউজলেটার

ওয়েবসাইটের ইমেইল ভিত্তিক নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন

phone

ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব অ্যাপ্লিকেশন

কন্টেন্টে আরও দ্রুত পৌঁছতে ও ইন্টারনেট ছাড়া ব্রাউজ করতে

download iosdownload android