মঙ্গলবার 16 শাওয়াল 1443 - 17 মে 2022
বাংলা

ফার্মাসিস্ট কর্তৃক রোগীকে হেল্থ ইন্সুরেন্সের ঔষধ বিলি করার হুকুম; যদি প্রবল ধারণা হয় যে, ঔষধগুলো রোগীর প্রয়োজনের অতিরিক্ত এবং রোগী কিছু ঔষধ বিক্রি করবে

প্রশ্ন

আমি ফার্সাসিস্ট। রোগীদের মাঝে হেল্‌থ ইন্সুরেন্সের ঔষধ বিলি করে এমন এক ফার্মাসিতে আমি চাকুরী করি। এক রোগী আছেন যিনি ইন্সুরেন্সের খরচে প্রতি মাসে ৩০০০ অর্থমুদ্রার ঔষধ গ্রহণ করেন। অথচ তার এ পরিমাণ ঔষধ প্রয়োজন নাই। প্রবল ধারণা হয় তিনি কিছু ঔষধ অর্ধেক দামে অন্য ফার্মেসিগুলোতে বিক্রি করে দিবেন। আমি যদি তাকে এ ঔষধগুলো দিই এতে কি আমার গুনাহ হবে? উল্লেখ্য, ইন্সুরেন্স কোম্পানির এতে কোন সমস্যা নেই এবং রোগী আমাকে বাদ দিয়ে অন্য ফার্মেসি থেকেও ঔষধগুলো নিতে পারবে? এ ঔষধগুলো কি রোগীর প্রাপ্য যে, এ ঔষধগুলো নিয়ে যা খুশি তা করা তার জন্য জায়েয: কিছু ঔষধ বিক্রি করে দেয়া কিংবা তার কোন নিকটাত্মীয়কে দেওয়া; যার ঔষধ প্রয়োজন?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

এক:

কোন রোগীর কী ঔষধ প্রয়োজন ও কী পরিমাণ প্রয়োজন তা নির্ধারণ করার কর্তৃত্ব ডাক্তারের; ফার্মাসিস্টের নয়।

অতএব, হেল্‌থ ইন্সুরেন্সের ঔষধ রোগীকে বিলি করায় ফার্মাসিস্টের কোন গুনাহ হবে না; এমনকি যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে, এ ঔষধগুলো তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত তবুও। এর গুনাহ বর্তাবে রোগীর উপর এবং যে ডাক্তার তার জন্য ঔষধগুলো লিখেছে তার উপর; যদি তিনি এমন ঔষধ লিখে থাকেন যা রোগীর প্রয়োজনে নেই। যেহেতু এতে রয়েছে মিথ্যা ও অন্যায়ভাবে ইন্সুরেন্সের সম্পদ ভোগ।

রোগীর জন্য যে ঔষধগুলো লেখা হয়েছে ফার্মাসিস্ট সে ঔষধগুলো ছাড়া অন্য কিছু রোগীকে দিবেন না। যেমন কোন রোগী যদি কিছু ঔষধ বদল করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রী বা প্রসাধনী সামগ্রী নিতে চায়। যেহেতু ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে যা লেখা হয়েছে সেটা বিলি করার জন্যই ফার্মাসিস্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত। এবং যেহেতু এতে ইন্সুরেন্স কোম্পানির সাথে মিথ্যাচার করা হয়: এমন ঔষধ ঐ রোগীর নামে রেজিস্ট্রি করার মাধ্যমে যে ঔষধ ঐ রোগী রিসিভ করেনি; বরং অন্য কিছু রিসিভ করেছে।

দুই:

ডাক্তার রোগীর প্রয়োজন সাপেক্ষে যে ঔষধগুলো তার জন্য লিখেছে রোগী সে ঔষধগুলো গ্রহণ করার পর সে এগুলোর মালিকানা অর্জন করেছে। তখন তার জন্য অন্য কাউকে ঐ ঔষধগুলো দেয়া জায়েয হবে; তবে শর্ত হচ্ছে এ দেয়ার কারণে সে যেন তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঔষধ তলব না করে।

আর যদি ছল-ছাতুরি কিংবা মিথ্যার মাধ্যমে কোন কিছু গ্রহণ করে: তাহলে সেটা হারাম সম্পদ; সে এর মালিক হবে না। বরং এমন সম্পদ আত্মসাৎকৃত ও চুরিকৃত সম্পদের ন্যায়। তার উপর আবশ্যক সেটি ইন্সুরেন্স কোম্পানিকে ফেরত দেওয়া কিংবা এর বদলে অন্য ঔষধ ফেরত দেয়া কিংবা এ ঔষধের মূল্য ফেরত দেওয়া। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কোন হাত যা গ্রহণ করেছে সেটা ফেরত দেয়া তার কর্তব্য।"।[মুসনাদে আহমাদ (২০০৯৮), সুনানে আবু দাউদ (৩৫৬১), সুনানে তিরমিযি (১২৬৬) এবং সুনানে ইবনে মাজাহ (২৪০০); শুআইব আল-আরনাউত 'মুসনাদের তাহকীক'-এ বলেন: হাসান লি গাইরিহি।

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব