রবিবার 10 যুলহজ্জ 1445 - 16 জুন 2024
বাংলা

কসম বা মানতকে যদি আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়

প্রশ্ন

চার বছর আগে আমি মানত করেছিলাম। আমার মানতটাকে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত করে বলেছিলাম: ‘আল্লাহর কসম! ইনশা-আল্লাহ আমি চাকুরি পেলে পূর্ণ এক মাসের বেতন দান করব’। এখন আমার করণীয় কী? চাকুরি পাওয়ার পর আমার বেতন যত ছিল তার চাইতে এখন বেড়ে গিয়েছে। যদি দান করতেই হয় তাহলে চাকুরি পাওয়ার পর আমার বেতন যত ছিল সেটা অনুযায়ী দান করব? নাকি আমার বর্তমান বেতন অনুযায়ী দান করব? যদি আমার উপর দান করা আবশ্যক হয় এবং আমি এ বছর আমার পরিবারসহ হজ্জ করতে চাই তাহলে কোন কাজটা প্রাধান্য পাবে? আমি কি আগে মানত পূরণ করব; নাকি হজ্জ করব? উল্লেখ্য, আমার কাছে নিজের ও পরিবারের হজ্জ করার মত সম্পদ আছে; কিন্তু হজ্জ ও মানত উভয়টা সম্পন্ন করার জন্য সে সম্পদ যথেষ্ট নয়। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানাচ্ছি। আল্লাহ আপনাদের হেফাযত ও তত্ত্বাবধান করুন।

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

আপনি যে কথাটা বলেছেন: “আল্লাহর কসম! ইনশা-আল্লাহ আমি চাকুরি পেলে এক মাসের বেতন দান করব” সেটা কসমের অন্তর্ভুক্ত; মানত নয়। কসমকারী কসমের সাথে আল্লাহর ইচ্ছাকে সম্পৃক্ত করলে তার কসম ভঙ্গ হবে না এবং তার উপর কাফ্‌ফারাও আবশ্যক হবে না। মানতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আপনি যদি দান না করেন তাহলে আপনার উপর কিছু আবশ্যক হবে না।

‘যাদুল মুস্তাকনি’ প্রণেতা বলেন: “কেউ যদি কাফ্‌ফারা পরিশোধযোগ্য কসমের ক্ষেত্রে ইনশা-আল্লাহ বলে— তার কসম ভঙ্গ হবে না।”

শাইখ ইবন উসাইমীন এর ব্যাখ্যায় বলেন: “তার বক্তব্যে ‘কাফ্‌ফারা পরিশোধযোগ্য কসম’ বলতে উদ্দেশ্য এমন কসম যেটাতে কাফ্‌ফারা প্রবেশ করে। যেমন: আল্লাহর নামে কসম করা, মানত করা ও যিহার করা। এই তিনটি বিষয়ের প্রত্যেকটিতে কাফ্‌ফারা আছে। তালাক ও দাসমুক্তি এর বাইরে থাকল। যেহেতু এই দুটিতে কাফ্‌ফারা নেই।

কাফ্‌ফারা প্ররিশোধযোগ্য কসমে কেউ যদি বলে: ‘ইনশা-আল্লাহ’ তাহলে তার কসম ভঙ্গ হবে না; অর্থাৎ তার উপর কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে না, যদিও সে যে বিষয়ের শপথ করেছিল তার বিপরীত কিছু করে।

আল্লাহর নামে কসম করার উদাহরণ হলো: ‘আল্লাহর কসম! আমি এই জামা পরব না ইনশা-আল্লাহ।’ তারপর সে এই জামা পরল। এমন অবস্থায় তার উপর কোনো কিছু আবশ্যক হবে না। কারণ সে বলেছে: ইনশা-আল্লাহ। যদি সে বলে: আল্লাহর কসম! আমি আজ এই জামা পরব, ইনশা-আল্লাহ। তারপর সে এই জামা পরার আগে সূর্য ডুবে গেল। তার উপর কিছু আবশ্যক হবে না।

এর পক্ষে দলীল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, তিনি বলেন: “কেউ যদি শপথ করে এবং শপথে ‘ইনশা-আল্লাহ’ (আল্লাহ চান তো) বলে, তাহলে তার শপথ ভঙ্গ হবে না।” ...

মানতের উদাহরণ হলো: কেউ যদি বলে: ‘আল্লাহ যদি আমার রোগীকে সুস্থ করে দেন, তাহলে আমার দায়িত্বে আল্লাহর জন্য একটা মানত রয়েছে, ইনশা-আল্লাহ।’ এমন অবস্থায় সে যদি মানত পূর্ণ না করে— তাতে সমস্যা নেই। অনুরূপভাবে কেউ যদি বলে: আল্লাহর জন্য আমার দায়িত্বে একটা মানত রয়েছে যে— আমি ঐ মানুষটার সাথে কোনো কথা বলব না, ইনশা-আল্লাহ। তারপর তার সাথে কথা বললে তার উপর কিছু আবশ্যক হবে না।”[আশ-শারহুল মুমতি‘ (১৫/১৩৯) থেকে সমাপ্ত]

তিনি আরও বলেন: “মানতকে যদি আল্লাহ্‌র ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত করে কেউ বলে: আল্লাহর জন্য আমার দায়িত্বে মানত রয়েছে যে আমি ইনশা-আল্লাহ অমুক কাজ করব:

তাহলে যে মানতের হুকুম কসমের হুকুম সেটাতে তার কসম ভঙ্গ হবে না।

আর মানতটি যদি কোন ইবাদত পালন করা শ্রেণীয় হয় তাহলে আমরা দেখব: যদি এতে ইবাদতটিকে তার ঝুলিয়ে রাখার উদ্দেশ্য হয় তাহলে তার উপর কিছু আবশ্যক হবে না। যদি তার দৃঢ়ভাবে করার কিংবা বরকত পাওয়ার উদ্দেশ্য হয় তাহলে তার উপর সেই ইবাদত পালন করা আবশ্যক হবে। এটা তার নিয়তের উপর নির্ভর করবে।”[আশ-শারহুল মুমতি‘ (১৫/২২১) থেকে সমাপ্ত]

যে মানতের হুকুম কসমের হুকুম সেটা হলো: এমন মানত যার দ্বারা কোনো কিছুকে সত্যায়ন করা বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করা উদ্দেশ্য কিংবা কোনো কিছু থেকে নিষেধ করা বা উৎসাহ প্রদান করা উদ্দেশ্য। এই মানতকে ঝগড়া ও ক্রোধের মানতও বলা হয়।

ইবাদতের মানতকে যদি আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়, তাহলে দেখতে হবে মানতকারী কি (মনে মনে) তার মানতকে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত করেছে কিনা। যদি এমনটা করে থাকে তাহলে কোনো কিছু আবশ্যক হবে না। আর যদি তার ‘ইনশা-আল্লাহ’ কথা দ্বারা শুধু বরকত লাভ কিংবা নিজের কথাকে দৃঢ় ও শক্তিশালী করা উদ্দেশ্য হয়, তাহলে মানত পূরণ করা আবশ্যক হবে।

ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে আপনি যে কথাটা বলেছেন সেটা কসমের বক্তব্য; মানতের না। সুতরাং আপনার কসম ভঙ্গ হবে না এবং কোনো কিছু আবশ্যক হবে না।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব