বৃহস্পতিবার 14 যুলহজ্জ 1445 - 20 জুন 2024
বাংলা

নামাযে যে ব্যক্তি ইফতিরাশ পদ্ধতিতে বসতে পারে না সে কিভাবে বসবে?

প্রশ্ন

নামাযে যে ব্যক্তি ইফতিরাশ পদ্ধতিতে বসতে পারে না এই অজুহাতে যে, এটি কষ্টকর; সে কিভাবে বসবে?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

নামাযের তিন স্থানে ইফতিরাশ পদ্ধতিতে বসা মুসল্লির জন্য মুস্তাহাব:

১। দুই সেজদার মাঝখানে।

২। যদি দুই তাশাহ্‌হুদ বিশিষ্ট নামায হয় তাহলে প্রথম তাশাহ্‌হুদের বৈঠকে।

৩। যদি এক তাশাহ্‌হুদ বিশিষ্ট নামায হয়; যেমন দুই রাকাতবিশিষ্ট নামায; তাহলে তাশাহ্‌হুদের বৈঠকে।

ইফতিরাশ মানে: ডান পায়ের আঙ্গুলের ওপর পায়ের পাতাকে খাড়া করে রেখে বাম পাকে বিছিয়ে এর উপরে বসা।

এক্ষেত্রে নারীর বসাও পুরুষের মত। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ সেভাবে নামায পড়।[সহিহ বুখারী (৬৩১)] নর-নারী সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করছে।

এভাবে বসা নামাযের একটি সুন্নত আমল; ওয়াজিব নয়। যে ব্যক্তি এভাবে বসল সে এর সওয়াব পাবেন। আর যে ব্যক্তি এভাবে বসতে পারল না; তার কোন গুনাহ হবে না।

স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্রতে (৬/৪৪৬) এসেছে: “সুন্নত হলো ব্যক্তি দুই সেজদার মাঝখানে তার বাম পাকে বিছিয়ে এর উপর বসবে; আর ডান পাকে খাড়া করে রাখবে। প্রথম তাশাহ্‌হুদের বৈঠকেও এভাবে করবে। আর শেষ তাশাহ্‌হুদের বৈঠকের ক্ষেত্রে সুন্নত হলো: তাওয়াররুক পদ্ধতিতে বসা। সেটা হলো: বাম পায়ের পাতাকে ডান পায়ের গোছার নীচে রেখে নিতম্বের ওপরে বসা। এগুলো সব মুস্তাহাব। যদি কোন মুসল্লি প্রথম বৈঠকে তাওয়াররুক করেন, আর শেষ বৈঠকে ইফতিরাশ করেন তাতেও তার নামায বাতিল হয়ে যাবে না।”[সমাপ্ত]

যদি কোন ব্যক্তি স্বাস্থ্যবান হওয়ার কারণে ইফতিরাশ পদ্ধতিতে বসতে না পারেন কিংবা বসতে গিয়ে তার পায়ের পাতায় ব্যথা হয়... কিংবা অন্য কোন কারণে বসতে না পারেন; তাহলে তার সুবিধামত পদ্ধতিতে বসতে কোন আপত্তি নেই। যেহেতু আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: তোমরা সাধ্যমত আল্লাহ্‌কে ভয় কর।[সূরা তাগাবুন, আয়াত: ১৬] এবং যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যদি আমি তোমাদেরকে কোন নির্দেশ দিই তাহলে তোমরা সাধ্যমত সেটি পালন করবে।[সহিহ বুখারী (৭২৮৮) ও সহিহ মুসলিম (১৩৩৭)]

‘আসনাল মাতালিব’ কিতাবে (১/১৬৪) বলা হয়েছে: “নামাযের বৈঠকগুলোতে যেভাবেই বসুক না কেন; আদায় হয়ে যাবে। তবে উত্তম হলো শেষ বৈঠকগুলোতে তাওয়াররুক পদ্ধতিতে বসা; আর অন্য বৈঠকগুলোতে ইফতিরাশ পদ্ধতিতে বসা।”[সংক্ষেপে সমাপ্ত]

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব