বুধবার 13 যুলহজ্জ 1445 - 19 জুন 2024
বাংলা

পুঁজ কি নাপাক?

প্রশ্ন

হলুদ বা সাদা রঙের পুঁজের দাগ কি নাপাক; চাই সেটা তরল হোক কিংবা কঠিন হোক?

উত্তর

আলহামদু লিল্লাহ।.

পুঁজ হলো: ‘ক্ষত বা এ জাতীয় অন্য স্থান থেকে পচনের কারণে নির্গত হলুদ রঙের পিচ্ছিল তরল।’[মু‘জামু লুগাতিল ফুকাহা: (পৃ. ৩৭৩)]

সাদীদ (দূষিত রস) হলো: ক্ষতস্থানের রক্তমিশ্রিত পাতলা পানি; গাঢ় হয়ে পুঁজে পরিণত হওয়ার আগে যে অবস্থায় থাকে।’ দেখুন: [তিলবাতুত তালাবা: (পৃ. ২২), আল-মাউসূয়াতুল ফিকহিয়্যাহ (২১/২৫)]

সুতরাং পুঁজের আগে ক্ষতস্থানে দূষিত রস থাকে।

পুঁজ ও দুষিত রসের হুকুম: চার মাযহাব ও অন্যান্য অধিকাংশ ফকীহের মতে এই দূষিত রস ও পুঁজের বিধান রক্তের মতই— নাপাকির দিক থেকে এবং কিঞ্চিত পরিমাণ ক্ষমার্হ হওয়ার দিক থেকে। কারণ দূষিত রস ও পুঁজ মূলত রক্ত; যা পঁচে বা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই রক্ত যদি নাপাক হয় তাহলে পুঁজ নাপাক হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।

দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে (১/৬০), আল-মাজমূ (২/৫৫৮), আল-কাওয়ানীন আল-ফিকহিয়্যা (পৃ. ২৭)

পুঁজ রক্ত থেকে সৃষ্ট। আর শাখা তার মূলের হুকুম গ্রহণ করে। ইতঃপূর্বে (114018) নং প্রশ্নের উত্তরে রক্তের নাপাকি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আল-মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা (৩৪/১২৮)-তে আছে: “ফকীহরা এই মর্মে একমত যে মানুষের শরীর থেকে পুঁজ বের হলে সেটা নাপাক। কারণ সেটা কদর্য বা খারাপ বস্তু। আল্লাহ তায়ালা বলেন: “আর তাদের জন্য তিনি খারাপ জিনিসকে হারাম করেন।” মানুষের সুস্থ প্রকৃতি এটাকে খারাপ হিসবে জানে। আর সম্মানের কারণ ছাড়া অন্য কারণে কোন কিছু হারাম করা প্রমাণ করে যে সেটা নাপাক। কারণ নাপাকির অর্থ পুঁজে বিদ্যমান। যেহেতু নোংরা জিনিসের আরেক নাম নাপাকী। মানুষের সুস্থ প্রকৃতি এটাকে নোংরা বিবেচনা করে; যেহেতু এটা আবর্জনা ও দুর্গন্ধে পরিণত হয়েছে এবং যেহেতু এটি রক্ত থেকে সৃষ্ট। আর রক্ত নাপাক।”[সমাপ্ত]

ইবন কুদামা আল-মাকদিসী বলেন: “পুঁজ, দূষিত রস এবং যা কিছু রক্ত থেকে সৃষ্ট সব রক্তের পর্যায়ভুক্ত। তবে আহমদ বলেছেন: এর হুকুম রক্ত থেকে হালকা।

ইবনে উমর (রাঃ) ও হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত আছে— তারা এই দুটিকে রক্তের মত গণ্য করতেন না।

আবু মিজলায দূষিত রসের ব্যাপারে বলেন: আল্লাহ তো প্রবাহিত রক্তের কথা বলেছেন।”[আল-মুগনী: (২/৪৮৩)]

তিনি আরো বলেন: “পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে রক্তের ক্ষেত্রে যতটুকু পরিমাণ ক্ষমার্হ এটার (পুঁজের) ক্ষেত্রে আরও বেশি পরিমাণ ক্ষমার্হ। কারণ রক্তের চেয়ে পরিমাণে বেশি না হওয়া পর্যন্ত এটাকে বেশি গণ্য করা হয় না। আর যেহেতু এটার ব্যাপারে কোনো দ্ব্যর্থহীন দলিল নেই। বরঞ্চ এটি নাপাক হওয়ার কারণ হলো এটা রক্ত থেকে নোংরা অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়া।”[ইবনে কুদামার ‘আল-মুগনী’ (২/৪৮৪) থেকে সমাপ্ত]।

ইমাম আহমদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ‘আপনার কাছে রক্ত আর পুঁজ কি সমান?’ তিনি উত্তর দেন: “না; রক্তের ব্যাপারে লোকরা মতভেদ করেনি। কিন্তু পুঁজের ব্যাপারে মতভেদ করেছে।” আরেকবার তিনি বলেন: “আমার কাছে পুঁজ আর দূষিত রস রক্তের তুলনায় হালকা।”[ইগাসাতুল লাহফান (১/১৫১) থেকে সমাপ্ত]।

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যা পুঁজ ও দূষিত রস পবিত্র হওয়ার মত গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন: “পুঁজ বা দূষিত রসের জন্য কাপড় এবং শরীর ধোয়া আবশ্যক নয়, এগুলোর নাপাকির পক্ষে কোনো দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”[আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যা (পৃ. ২৬) থেকে সমাপ্ত]

নিঃসন্দেহে অধিকাংশ আলেমের মতই নিরাপদ এবং দায়মুক্তির অধিক নিকটবর্তী। তবে সামান্য পরিমাণ হলে সেটা ক্ষমার্হ। বিশেষ করে এর থেকে বেঁচে থাকা কঠিন হলে এবং এর দ্বারা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হলে। যেমনটি অসুস্থ ও আহতদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। প্রশ্নে যে ‘দাগ-এর কথা জিজ্ঞেস করা হয়েছে ধারণা করা যায় সেটি সামান্য পরিমাণ; খুব বেশি নয়।

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির মতে: “রক্ত, পুঁজ ও দূষিত রস সামান্য পরিমাণ হলে ক্ষমার্হ; যদি সেটা লজ্জাস্থান ছাড়া অন্য কোথাও থেকে বের হয়। কারণ এগুলোর সামান্য পরিমাণ থেকে বেঁচে থাকা কঠিন।”[ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ: (৫/৩৬৩)]।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব